বুস্ট মানেই সেল নয়- উপায় জানুন

বুস্ট মানেই সেল নয়- উপায় জানুন

 

বুস্ট বলতে এখানে কি বুঝানো হয়েছে ?

এখানে বুস্ট বলতে ফেসবুক বুস্টের কথা বুঝানো হয়েছে ?

 

বুস্ট কেনো করা হয় ?

সাধারনত যখন আমাদের ফেসবুকে একটি বিজনেস পেজ থাকে, তখন সেই পেজের পোস্টের এঙ্গেইজড বাড়ানোর জন্য আমরা বুস্ট করে থাকি। 

 

এখন আপনার প্রশ্ন হতে পারে, এঙ্গেইজমেন্ট তো হচ্ছে তাহলে সেল কেনো বাড়ছে নাহ ?

 

তাহলে একটু বিস্তারিতোই বলা যাক- 

ধরুন কনো একটি প্লাটফর্ম সেখানে ১০ জন মেম্বার রয়েছে। এখন দুজন লোক দুটি আলাদা আলাদা পোস্ট করেছে। দুজনের এঙ্গেইজমেন্টই ১০কিন্তু একজনের পোস্টে ৯ টি লাইক এসেছে আর অন্য জনের ২ টি লাইক  ।

 

কিন্তু এমনটা হওয়ার কারন কি ?

এর কারন হচ্ছে আপনার কন্টেন্টের গুনোগতো মান। যার ৯টি লাইক এসেছে তার কন্টেন্টের গুনোগতো মান অন্যজনের চেয়ে বেটার ছিল যার কারনে তার লাইক বা রিসপস্নসের সংখ্যা বেশি। আর যার লাইক কম আসছে তার এঙ্গেইজমেন্ট ঠিকই ১০ আসছে কিন্তু ওই ১০ জনের মধ্যে মাত্র ২ টা লাইক আসছে অর্থাৎ মাত্র ২ জন লোক রিসপন্স করেছে।

 

ঠিক একই ভাবে ফেসবুকে আপনি ঠিক ভাবে টার্গেটিং বুস্ট করার পর আপনার এংগেইজডমেন্ট ঠিকই পাবেন কিন্তু কিন্তু কন্টেন্ট ভাল না হওয়ার কারনে প্রোডাক্ট সেল হবে না।

 

আপনি কি কখনো নিজেকে ঠিক এই প্রশ্নটি করেছিলেন যে, কেনো হচ্ছে নাহ !

 

আসুন তাহলে জানি, ফেসবুক বুস্ট করার পূর্বে আমাদের কি কি করনিয়- 

 

যখন কেউ প্রথমবারের মত Facebook Ad দিতে যায় এবং তার যদি Facebook Ad সম্পর্কে আগে থেকে ভালভাবে জানা না থাকে, তখন সে কনফিউশনে পরে যায় যে আসলে তার তখন কি করা উচিত ।

এক্ষেত্রে আপনার কি করার আছে ?  

Facebook Ad দেয়ার পূর্বে আপনাকে ফেসবুক অ্যাড সম্পর্কে একটি ভাল আইডিয়া নিতে হবে। যেমন আপনাকে জানতে হবে –

  1. কত ডলারে কত দিনের জন্য অ্যাড দেয়া ভাল ? 
  2. কম ডলারে বুস্ট করা ভাল নাকি বেশি ডলারে ?
  3. বুস্টের ক্ষেত্রে কুপন ব্যবহার করা ভাল নাকি খারাপ ?
  4. অ্যাডে কয়টা ছবি দেয়া ভাল ?
  5. কিভাবে অ্যাড সাজালে ভাল এনগেজমেন্ট পাওয়া যায় ?
  6. অ্যাডের পিকচার কেমন হতে হবে ?
  7. কিভাবে বেশি ম্যাসেজ পাওয়া যাবে ?

 

এভাবে আরো অনেক প্রশ্ন রয়েছে যা আপনাকে প্রথমে জেনে নিতে হবে Facebook Ad এর পূর্বে। এরপর আপনাকে কোনো ভাল Agency থেকে Facebook Ad করিয়ে নিতে হবে। 

 

এখন আপনার প্রশ্ন হতে পারে, আপনি তাহলে এগুলো কোথায় থেকে  জানবেন ?  

আপনি যদি এই কন্টেন্টটি পুরোপুরি ভাল করে পড়ে থাকেন, তাহলে আপনি উপরে সবগুলো প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন। 

তাহলে দেরী না করে এবার আসুন প্রথম প্রশ্ন দিয়েই শুরু করা যাক –

কতো ডলারে কতো দিনের জন্য অ্যাড দেয়া ভাল ? 

এটি একটি খুবই গুরুত্বপূর্ন প্রশ্ন কারনে অনেক কম্পানিই আছে আপনাকে বুস্ট করে দিবে কিন্তু আপনাকে তারা কোনো সাজেশন দিবে নাহ।

 যদি কোনো ভাল কম্পানি হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে আপনাকে তার সাজেশন দিতে পারে তা নাহলে আপনি যা চাইবেন তারা তাই করে দিবে।

 

এখন কথা হচ্ছে, আপনি কত ডলারে কত দিনের জন্য বুস্ট করাবেন-

যদি আপনি এর আগে কখনো আপনার পেজে বুস্ট না করে থাকেন সেক্ষেত্রে মার্কেটিং এক্সপার্টদের মতে সাধারনত  ১২ ডলারে ৪ দিনের জন্য বুস্ট করা ভাল। 

তবে এটা ডিপেন্ড করবে আপনার বাজেট এবং প্রডাক্ট সংখ্যার উপর।

 

এখান অনেকে বলতে পারেন, আমার প্রডাক্টই তো মাত্র চার পাচটা আমি যদি এখন ৪ দিনের বুস্ট করার ক্ষেত্রেই ১৩০০-১৪০০ টাকার মতো খরচ করে ফেলি সেক্ষেত্রে আমি লাভ কিভাবে করবো !!

দেখুন আপনাকে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে প্রথমে মাথায় রাখতে হবে ব্যবসার শুরুতে আপনার ইনভেস্ট করতেই হবে। 

এক্ষেত্রে বুস্টের খরচটা না হয় ইনভেস্ট হিসেবেই ধরুন। 

তবে এখন বলতে পারেন ১২ ডলারে ৪ দিন কেন ? 

৬ দিন বা ৭ দিন নাহ কেন ?

আসুন তাহলে এটা ২য় প্রশ্নের উত্তরে বলি –

কম ডলারে বুস্ট করা ভাল নাকি বেশি ডলারে ?

আপনি কি জানেন প্রতিটি প্লাটফর্মেই একটা নিজস্ব অ্যালগরিদম রয়েছে। প্লাটফর্মের ভিতর সেটা হতে পারে ফেসবুক, গুগল, ইউটিউব, ইন্সটাগ্রাম, টুইটার। 

আপনি যখন যে প্লার্টফর্ম নিয়ে কাজ করবেন তখন সেই প্লার্টফর্মের অ্যালগরিদম কিভাবে কাজ করে সেটা আপনাকে বুঝে কাজ করতে হবে।

ফেসবুকের কথাই ধরুন –

আগে একটা সময় ছিল যখন ফেসবুকে শধু অ্যাড রান করলেই ভাল এঙ্গেজমেন্ট পাওয়া যেতো। কিন্তু নতুন অ্যালগরিদম আর আগের মত নেই, কারন হচ্ছে ফেসবুক প্লার্টফর্মকে এখন সবাই মার্কেটিং প্লার্টফর্ম হিসেবে বেছে নিয়েছে।

তাই বলা যেতেই পারে ফেসবুকে প্লার্টফর্ম অ্যাড রান করার ক্ষেত্রে একটি প্রতিযোগিতার বা একটা Competition Platform.

 

 যেহেতু এটি একটি Competition Platform তাই এই প্লার্টফর্মে যার বাজেট বেশি থাকবে তার অ্যাডটি ফেসবুকের অ্যালগরিদম ভাল অপ্টিমাইজ করে থাকবে। 

কিন্তু যার অ্যাডে বাজেট কম তার কন্টেন্ট অপ্টিমাইজ ও কম করে থাকবে। 

 

তাহলে পরিশেষে বুঝতেই পারতেছেন, আপনি কম টাকার বুস্ট করবেন আপনার রিসপন্স ও কম আসবে। 

আর বেশি টাকার বুস্ট করলে রিসপন্সও বেশি আসবে। 

 

এবার আসি ৩য় প্রশ্নে-

 

বুস্টের ক্ষেত্রে কুপন ব্যবহার করা ভাল নাকি খারাপ ?

কুপন একটি ফ্রি জিনিস তাই ফ্রি জিনিস কখনো ভাল হতে পারে নাহ আপনার পেজে বারবার কুপন ব্যবহার করা হলে, ফেসবুক তখন আপনার পেজকে আন ইউজুয়াল একটিভিটির ভিতর কাউন্ট করবে। 

যার ফলে আপনার পেজের রিসপন্স তো কমবেই এমনকি আপনার পেজ বাদ হয়ে যাওয়ারও সম্ভাবনা থাকবে। 

তাই কুপন ব্যবহার না করাই ভাল, কুপন সম্পর্কে আরো ভাল ডিটেলসে জানেতে এখানে Click করুন। 

 

৪র্থ প্রশ্ন-

অ্যাডে কয়টা ছবি দেয়া ভাল ?

অ্যাাড দেয়ার সময় আপনাকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যে আপনার কাস্টোমার বা ভিউয়ার যেনো বিরক্ত না হয়। 

সেই কথা মাথায় রেখে আপনাকে অ্যাড রান করতে হবে। যদি একটা ছবি দেয়া যায় সেটা বেস্ট কিন্তু ই-কমার্স সাইটের ক্ষেত্রে আপনার তো একটা ছবি দেয়া পসিবল হবে নাহ, কারণ আপনার অনেক গুলো প্রোডাক্ট রয়েছে।

সেক্ষেত্রে বেটার হবে যদি আপনি মেক্সিমাম ৭টা থেকে ৮টা ছবি আপলোড করেন।

 

তাহলে আপনার কাস্টোমারও আপনার প্রোডাক্টগুলো ভাল করে দেখতে পারবে। 

কিন্তু অনেকেই দেখা যায় যারা ৩০ থেকে শুরু করে ৭০ টা ছবি দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে আপনার ভিউয়ার্স বিরক্ত হয়ে আপনার পোস্টকে ইগ্নোর করবে। হয়তো আপনি দেখতে পাবেন আপনার পোস্টের এনগেজমেন্ট-  ইম্প্রেশন অনেক হয়েছে কিন্তু কোনো প্রোডাক্ট সেল হয়নি। 

তাই প্রোডাক্টের ছবির দেওয়ার সময় অবশ্যই কম ছবি আপলোড করবেন।

 

৫ম প্রশ্ন-

কিভাবে অ্যাড সাজালে ভাল এঙ্গেইজমেন্ট পাওয়া যায় ?

এক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই ছবি আপলোড করতে হবে এবং পোস্টের ডিসক্রিপশনের দিকে ভাল গুরুত্ব দিতে হবে। যেন উপরের ডিসক্রিপশনের লেখা আপনার ভিউয়ার্সকে আকর্ষণ করে। 

আরেকটি জিনিস মাথায় রাখতে হবে কখনোই ছবিতে বেশি টেক্সট দিবেন নাহ। যতো পারেন ফোকাস টেক্সট দিবেন এতে ভাল এনগেজমেন্ট পাবেন। 

 

৬ষ্ঠ প্রশ্ন-

অ্যাডের ছবি কেমন হতে হবে ?

আপনি যদি ৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর ভাল করে পড়ে থাকেন, তাহলে আপনি বুঝে গিয়েছেন অ্যাডের ছবি কেমন হতে হবে। তবে আপনাকে একটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে আপনার ছবির অবশ্যই ফোকাসড পিকচার হতে হবে। 

এবং ছবির কোয়ালিটি ভাল হতে হবে, আর একটি জিনিস মাথায় রাখবেন আপনার প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রে যেনো কম্পোনেন্ট বেশি না থাকে। 

এক্ষেত্রে আপনি আমাদের প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি সার্ভিসটি নিতে পারেন। 

 

৭ম প্রশ্ন- 

কিভাবে বেশি ম্যাসেজ পাওয়া যাবে ?

আপনি যখন উপরের ৬টি প্রশ্নের উত্তর মাফিক মার্কেটিং করে থাকেন সেক্ষেত্রে আপনি বেশি মেসেজ পাবেন।

তবে হ্যা আপনি যদি টার্গেটিং বুস্ট করে থাকেন সেক্ষেত্রে ম্যাসেজ একটু কম আসলেও আপনি টার্গেটিং কাস্টোমারের ম্যাসেজ পাবেন।

 

আপনি যদি উপরের সব লেখাগুলো ভাল করে পড়ে থাকেন তাহলে আসা করি আপনি বুঝে গিয়েছেন – 

  1. কখনোই কম টাকার Facebook Ad করা ভাল নাহ ;
  2. আপনি জেনে গিয়েছেন কিভাবে আপনি আপনার কন্টেন্টকে সাজিয়ে আপলোড দিতে হবে;
  3. আপনি জেনেছেন আপনার কন্টেন্টে কতোগুলো ছবি থাকলে রেস্পন্স বেশি আসবে; 
  4. কিভাবে পোস্টের এনগেজমেন্ট বাড়ানো যাবে;
  5. অ্যাডের ছবি কেমন হবে;
  6. বুস্টে কুপন ব্যহার ভাল নাকি খারাপ;
  7. কত ডলারে কত দিনের জন্য অ্যাড দেয়া ভাল;

 

এবার আসি তাহলে আপনি কোথা থেকে বুস্টিং সার্ভিসটি নিবেন। 

বর্তমান বাংলাদেশ অনেক IT Company রয়েছে তবে তাদের ভিতর কিছু কিছু কোম্পানি খুব ভাল সার্ভিস দিয়ে থাকে।

 

 

 

এক্ষেত্রে যারা Daily Package এ বুস্ট করতে চান তাদের জন্য FSIT-Digital Solution অন্যতম হবে।

আপনি চাইলে তাদের Facebook Page এ সরাসরি মেসেজ দিতে পারেন।

অনেকেই আছেন যারা ওয়েবসাইট বানাতে চাচ্ছেন তারা Foresight IT এর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

 

We will be happy to hear your thoughts

Leave a reply

The Foresight IT
Logo
Enable registration in settings - general
Compare items
  • Total (0)
Compare
0