বিজনেসে লসের পর লস হতে থাকবে, এরপর গিয়ে বিজনেস বন্ধ!! নাকি সঠিক পদ্ধতিতে মার্কেটিং করবেন?

আপনার ফেসবুক পেইজে কি সেলস এবং এঙ্গেজমেন্ট  কমে গিয়েছে?

 

অনেকেই মনে করেন , টার্গেট অডিয়েন্স ঠিক থাকলে সেল এমনিতেই হয়। ব্যাপারটি ঠিক এমন নয়। আচ্ছা ভাবুন তো , আপনি একটি বাইক কিনবেন Hero ব্র্যান্ডের Hero Hunk 150 SD . আপনি ভাবছেন লোকাল শপ থেকে না কিনে অনলাইনে কিনবেন। এখন এই একটি বাইক কেনার আগে আপনার মাথার ভিতর কি কি চলবে ? 

 

  • কেনার আগে অবশ্যই আপনি আগে ইউটিউব এর কনফিগারেশন দেখবেন। 
  • বাইকের রিভিউ দেখবেন
  • Hero Hunk 150 SD  এর সুবিধা অসুবিধা গুলো দেখবেন। 
  • কোন ওয়েবসাইটে ভালো এমউন্টে অফার দিচ্ছে। 
  • বাংলাদেশে করা বেশি ভালো ট্রাস্টেড বাইক সেল করে এবং ভালো সার্ভিস দেয়। 
  • এক্সট্রা সার্ভিস কারা দিচ্ছে। 

 

মোটামুটি এসব ব্যাপারে আপনি অনেক গুরুত্ব দিবেন যখন বাইক কিনবেন তার আগে। আরো অনেক থাকতে পারে, মোটামুটি আমরা মনে যা হলো সেটাই তুলে ধরেছি।

 

এই সব বিষয় গুলো জানা শেষ হবার পরেই আপনি একটি বাইক কিনবেন বা কোন শপ থেকে কেনার সিদ্ধান্ত নিবেন। ঠিক আপনার এই চিন্তা ভাবনার যে সময়টি , এটি সোস্যাল মার্কেটিংএ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই সময়ে আপনার মাথায় ভালো মত কোন ওয়েবসাইট বা পেজের নাম গেঁথে দেওয়া যায় ভালো ভাবে সেটার মাধ্যম হলো বার বার আপনাকে একই Hero Hunk 150 SD বাইকের এডস দেখানো। যেটাকে মার্কেটিং ভাষায় brainwashing > Train to Brain বলা হয়। যদিও আমি এই ব্যাপারে আলোচনা করছি না তাই এটা নিয়ে বেশি বলবো না।

 

বাইক কেনার আগে আপনার দরকার যথেষ্ট পরিমাণ ইনফরমেশন। আচ্ছা মনে করুন, আপনার যত ইনফরমেশন জানা দরকার সব আপনি একটি পেজ বা ওয়েবসাইট থেকেই পেয়ে গেলেন , তাহলে আপনার জন্য অনেক সুবিধার। যখন একটি পেজ থেকেই সব পাবেন , অবশ্যই সেই ওয়েবসাইট আপনার এমনিতেই ভালো লেগে যাবে। তারপর হয়তো আপনি একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন আপনি এখান থেকেই বাইকটি কিনবেন। 

 

উপরের এত কথা খরচ করার একটাই কারণ – আপনি যখন কোন কিছু বিক্রি করবেন অবশ্যই আগে নিজেকে কাষ্টমার হিসাবে ইমাজিন করুন। কাষ্টমার কিছু কেনার আগে চায় প্রচুর পরিমান ইনফরমেশন। তাই আগে ইনফরমেশন দেবার চেষ্টা করুন। কথায় আছে – Information is Money

আপনি যত বেশি ইনফরমেশন দিবেন কাষ্টমার তত বেশি আকর্ষিত হবে। কামানের গুলি মিস যাবে কিন্তু এটার মিস নাই। কাষ্টমার কেনার আগে কি কি ভাবতে  পারে বা কি কি তার প্রয়োজন সেটা মাথায় রেখে আপনার পোষ্ট , এডস  , ব্লগ সাজিয়ে ফেলুন। 

 

আপনি হয়তো দেখে থাকবেন , Unilever , SMC , Pran  বাংলদেশের বাঘা কোম্পানি। এরা বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে স্পন্সর করে বা বিভিন্ন সোশ্যাল ওয়ার্ক সরাসরি কাজ করে। এগুলো সবই তাদের মার্কেটিংএর জন্য। তারা চায় আপনার ব্রেইনে সব সময় তাদের কোম্পানির নামটি আগে থাকুক। মূলত তাদের মার্কেটিংএর উদ্দেশ্য তাঁদের কোম্পানির প্রডাক্টের নাম আপনার ব্রেইনে গেঁথে দেওয়া। এটা মার্কেটিংএর ভাষায় বলে WOM – word of mouth. এমন ভাবে মার্কেটিং করা যেন আপনার মাথায় গেঁথে যায় সাথে মানুষের মুখে মুখে থাকে। এটা হলো মার্কেটিং এর সব থেকে জটিল ও কার্যকর। 

 

ধরুন আপনি একটি সাবান কিনবেন – মাথায় আগেই আসবে লাক্স সাবানের নাম। 

আপনি একটি বালতি কিনবেন – মাথায় আগেই আসবে আরএফএল প্লাস্টিক।

আপনাকে বলা হলো বাংলাদেশের ৫ টি ইকমার্স এর ভিতর একটির নাম বলো – আপনি বলবেন দরাজ। 

 

এই নাম গুলো মাথায় বা মনে আসার কারণ – আপনি সব সময় এদের নাম শুনছেন , দেখছেন। এরা সব কিছু খুব ভালো ভাবেই আপনার মাথায় সেট করে দিয়েছে। বারবার এদের এডস, সোশ্যাল ওয়ার্কস ব্যানার আপনার সামনে।

 

এই মার্কেটিং এর সময় কিন্তু একবারেই হয়ে যায়নি। এটা করতে কোম্পানি গুলোকে অনেক বছর সময় দিতে হয়েছে। যার ফল এখন আপনি নিজেই ভাবেন।  word of mouth মার্কেটিং সময়ের ব্যাপার , কিন্তু একবার কাজে লেগে গেলে আপনাকে আর পিছনে ফিরে দেখতে হয় না। 

 

অনেক উদাহরণ, অনেক প্যাচ টেনেছি। সব গুলোর কারণ এখন শর্ট টাইমে শেষ করি।

■ কাষ্টমারকে প্রচুর পরিমানে ইনফরমেশন দিন আপনার প্রডাক্টের ব্যাপারে। 

■ ফেসবুকে এডস রান করলে বার বার রি টার্গেট করুন আপনার অডিয়েন্সকে ।

শুধুমাত্র প্রোডাক্ট ছবি দিয়ে সেল পোষ্ট বুস্ট করলে সেল হয় এমন না। শুধুমাত্র ইনফরমেশন দিয়েও সেল করা সম্ভব। 

 

শুরুরদিকে আমরা ফেসবুকে অরগানিক মার্কেটিং করতাম, বিভিন্ন গ্রুপে নিজের প্রোডাক্ট অথবা সার্ভিসের পোস্ট দিতাম।

একটা সময়ে দেখা গেলো অরগানিক মার্কেটিং এ খুব একটা বেশি লাভ হচ্ছে না, তখন আমরা শুরুকরি ফেসবুক পেইড মার্কেটিং। বিভিন্ন রকম অডিয়েন্স টার্গেট ,ইন্টারেস্ট, ডেমোগ্রাফিক, বিহেবিয়ার ইত্যাদি টাইপের মার্কেটিং।

সত্যি কথা হচ্ছে এখন এগুলো অরগানিক মার্কেটিং এর মতন খুব ভালো কাজ করছে না। তাহলে কি অলটারনেটিভ নেই? অবশ্যই আছে।

যুগ তো ধীরে ধীরে আপডেট হচ্ছে, এখন ফেসবুক মার্কেটিং এ অনেক টুলস এসেছে যার মাধ্যমে একদম সঠিক অডিয়েন্সের সাথে কানেকশন করা যায়। সেটা কি করছি আমরা? আমরা যদি অরগানিক মার্কেটিং কাজ হচ্ছে না দেখে পেইড মার্কেটিং এ আসতে পারি তাহলে প্রচলিত পেইড মার্কেটিং কাজ না করলে আপডেট হতে পারছি না কেন।

যেটা সব সময় বলে আসছি, এখন ডাটা ড্রিভেন মার্কেটিং এর যুগ। সে জন্য তেমন কিছুর দরকারও নেই, শুধু দরকার আপনার একটি ওয়েবসাইট আর ফেসবুক পেইজ। আপনার সাইট থেকে যদি একটা সেলও না হয় তারপরও আপনি ওয়েবসাইটকে ব্যবহার করে কার্যকরী মার্কেটিং করতে পারবেন।

আমরা নিজেই কিন্তু দেখতে পাচ্ছি শত শত ডলার খরচ করেও সেল পাওয়া যাচ্ছে না, তাহলে সেখান থেকেই কি কিছু টাকা ইনভেস্ট করে সঠিক পথে কাজ করা যায় না। আমার কিন্তু মনে হয় যায়। আপনি নিজেই একবার চিন্তা করে দেখুন। লসের পর লস হতে থাকবে, এরপর গিয়ে বিজনেস বন্ধ নাকি সঠিক পদ্ধতিতে মার্কেটিং।

 

আপনার বিজনেস প্রসারের জন্য এবং যে কোন পরামর্শের প্রয়োজন হলে কল করতে পারেনঃ 02-58054171

We will be happy to hear your thoughts

Leave a reply

The Foresight IT
Logo
Enable registration in settings - general
Compare items
  • Total (0)
Compare
0